বিজ্ঞানময় কোরআন।

বিংশতম পোষ্ট
কোরআন ও বিজ্ঞান
***********************
মক্কার মুশরিকরা যখন পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে হাসাহাসি করতো এবং এভাবে বলতো,
সূরা বনী ইসরাইল আয়াত ৪৯,
“তারা বলেঃ যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?”
তখন আল্লাহ্‌ বলেন–
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَجْمَعَ عِظَامَهُ
মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না?
بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
পরন্ত আমি তার অঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।(সুরা কিয়ামাহ: ৩,৪)
বন্ধুগণ, এই আয়াতের কি বিশেষত্ব আছে? এখানেতো শুধু হাড় আর আংগুলের কথা বলা হয়েছে!!
যারা মনেকরেন আয়াতটি নিরক্ষর ব্যাক্তির অতি সাধারণ জ্ঞানহীন বক্তব্য তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা একটু উপলব্ধি করুন আয়াতের গভীরতা!!
তাহলে হাত এবং আঙ্গুলের গঠনশৈলী ও শৈল্পিক এনাটমি বিশ্লেষণ করা যাকঃ
♦ সমস্ত শরীরের হাড়ের সংখ্যা মোট ২০৬টি, জানেন কি তন্মধ্যে দুই হাতেই রয়েছে ৫৪টি এবং তা হাতের এসব সুক্ষ কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনেই।
♦ দুই হাতের দ্রুত পরিচালনার নিমিত্তে রয়েছে ৬০টি মাংশপেশী।
♦মাংশপেশী সমূহের insertion বা নিস্পত্তি হয় tendon sheath এর মাধ্যমে যার শৈল্পিক গঠন এবং বিন্যাস খুবই সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
♦ ধমনী এবং শিরার জালিকা বিন্যাস (capillaries & venules), synovial sheath distribution অবাক করার মত। অনামিকা এবং মধ্যমা আঙ্গুলে সাইনোভিয়াল শিথ না থাকার কারণেই এই দু আঙ্গুলে prick করে রক্ত নেয়া হয় যাতে কোন প্রকার সংক্রমণ না হয়।
Index finger বা নির্দেশিকা আঙ্গুলে অপারেশনের সময়ে খোঁচা খেয়ে সংক্রমণ হওয়ার কারণে বিশ্বখ্যাত সার্জন হেমিলটন বেইলীর এ আঙ্গুলটি কেটে ফেলতে হয়েছিল। পরবর্তীতে একটা বিশেষ সার্জিকেল কোম্পানী উনার জন্য চার আঙ্গুল বিশিষ্ট গ্লাভ্স(gloves) তৈরি করে সরবরাহ করত।
♦আঙ্গুলের nerve endings বা স্নায়ুপ্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল। না দেখেও অনেককিছু স্পর্শ করে আন্দাজ করা সম্ভব যা অনেকটা ষষ্ঠেন্দ্রীয়ের মতই।
♦স্নায়ুবিহীন নখের উপস্থিতি কত গুরুত্বপূর্ণ একটু আন্দাজ করুন। তা কেবল সৌন্দর্যের জন্যেই নয়, একবার কোন আঘাতে এটা পড়ে গেলে দিনে কতবার এখানে ব্যথা পাবেন তার ইয়ত্তা নেই, যা অনেকটা ভাঙ্গা পা গর্তে পড়ার মতই।
♦নখের ধরণ, আকার এবং রং দেখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় করতে পারেন চিকিৎসকবৃন্দ।
হাত এবং আঙ্গুলের অনেক অলৌকিক মহিমা হয়ত এখনো পুরোপুরি আমাদের জানা হয়নি।
তাইতো মাওলা বলেছেন—–
﴿ فَبِاَىِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ﴾
হে জ্বীন ও মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন্ কোন্ কুদরতকে অস্বীকার করবে?
এখানেই শেষ নয় আরো রহস্য রয়েছে বাকী!!
আল্লাহ্‌ আরো বলেন–
بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
বরং আমি তার অংগুলি- গুলোর ডগা পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।” (আল কিয়ামাহ, আয়াত ৩-৪)
এখানে আল্লাহ ফিঙ্গার প্রিন্টের স্বকীয়তার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আল্লাহ শুধু মানুষের অস্থিতে মাংশ পড়িয়েই উত্থিত করবেন না বরং এমন নিখুত ভাবে মানুষকে জীবিত করবেন যেন জীবদ্দশায় তার আংগুলের শুক্ষ্ রেখা পর্যন্ত সুবিন্যস্থ করবেন। এখানে কাফিরদের অভিযোগের ও উত্তর দেওয়া আছে। মুশরিকরা বলে গলা পচা অস্থি একজনের গুলোর সাথে অন্য জনের গুলো মিশ্রিত হবে না?
ফিঙ্গার প্রিন্ট কে ডাটা ব্যাংক বলা হয়। জিনের মধ্য সন্নিবেশিত প্রায় সকল বৈশিষ্ট, শুধু শারিরীক গঠনই নয় বরং চারিত্রিক বৈশিষ্ট পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপে এনকোড করা থাকে। তাই আল্লাহ এখানে কাফির দের জবাব ও জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন দিয়েছেন, যে শুধু মাত্র আঙ্গুলের ডগার প্রিন্ট দিয়ে যদি একটি মানুষের সম্যক বৈশিষ্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তবে প্রত্যেক মানুষ কে তার নিজের অস্থি দিয়ে পুনঃবিন্যস্থ করা কোনো ব্যাপারই না।
বন্ধুগন,
১৫০০বছর আগে কোরআন এ বর্ণীত হয়েছে এই তথ্য!!
আধুনিক বিজ্ঞান কবে জেনেছে?
১৬৮৪ সালে সর্বপ্রথম ইংলিশ ফিজিসিয়ান, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এবং অনুবিক্ষন যন্ত্রবীদ “নিহোমিয়া গ্রিউ” (১৬৪৭-১৭১২) বৈজ্ঞানিক দৈনিকী প্রকাশ করে করতল ও আংগুলের ছাপের রহস্যের সংযোগ সূত্রের ধারণার উত্থাপন করেন।
এর পর ১৬৮৫ সালে ডার্চ ফিজিসিয়ান “গোভার্ড বিডলো” (১৬৪৯-১৭১৩) এবং ইটালিয়ান বিজ্ঞানী “মারসিলো বিডলো” (১৬২৮-১৬৯৪) এনাটমির ওপর বই প্রকাশ করে ফিঙ্গার প্রিন্টের ইউনিক গঠনের আলোচনা উত্থাপন করেন।
১৬৮৪ সালের পূর্বে ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পর্কে আর কোনো বিজ্ঞা্নীর আলোকপাতের কথা পাওয়া যায় না। এর পরবর্তী তে দীর্ঘ বিরতির পর ১৮০০ সালের পর ফিঙ্গার প্রিন্ট পুনরায় জোরভাবে বৈজ্ঞানিক দের দৃষ্টি আকর্ষন করে। এসব বিজ্ঞানীদের মধ্য উল্লেখ যোগ্য হলেন, ১৮৭৫ সালে জেন জিন্সেন, খুলনার সৈয়দ মুহাম্মাদ কাজী আজিজুল হক, ব্রিটিশ কর্মকর্তা এওয়ার্ড হেনরি
১৮৮০ সালে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট এর গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আঙ্গুলের ছাপকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।পৃথিবীতে এমন দু’জন ব্যক্তি নেই যাদের আঙ্গুলের ছাপ এক রকম।এমন কি দুই যমজ ভাইয়েরও না।একারণে বিশ্বব্যাপী পুলিশ বাহিনী অপরধীদেরকে চিহ্নিত করার জন্য আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে।
সুবাহানাল্লাহ! ১৯শতকে এসে আধুনিক বিজ্ঞান যে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করল, কোরআন তা নিশ্চিত করে বলেদিল ১৫০০ বছর আগে!!
কিভাবে সম্ভব হল যদি না এটি ঐশী গ্রন্থ হয়?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s