“রাজাকারের বাচ্চা বলবেন না, আচরন বিধি লঙ্ঘন করবেন না”।

এই সোনার বাংলা দেশে আমি জন্মসূত্রে বাঙ্গালী, আমিও আমার সোনার বাংলা’কে ভালোবাসি।

Advertisements

প্রবাসীদের দেশি দুর্ভোগ বাড়ছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ছাড় দিয়েছেন, আবার কর আদায়ের নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারের আয়োজন
আয় আড়াই লাখ টাকা হলেই কর

প্রস্তাব: ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি।
প্রভাব: আপনার আয় যদি এক বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে আপনাকে কর দিতে হবে। গত জুলাই থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত আপনার হিসাব করে দেখুন, কত আয় করলেন। যদি আড়াই লাখ টাকা কিংবা এর বেশি হয়, তাহলে প্রস্তুতি নিন। কর আপনাকে দিতেই হবে। কয়েক বছর ধরেই এই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। এর ফলে অনেকের জন্য এই খবর সুখকর না–ও হতে পারে। গতবার যাঁদের আয় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি গিয়ে করজালের বাইরে ছিলেন। এবার তাঁদের বেতন–ভাতা বা আয় বাড়লেই কর দিতে হবে। ভুগতে হবে তাঁদের, করজালে আটকে যাবেন তাঁরা। প্রতিবছর করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও তা করা হয়নি।
করমুক্ত আয়সীমা না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে অর্থমন্ত্রী একটি ফাঁদ পেতেছেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের সমান বা এর চেয়ে কম। দেশে করমুক্ত আয়সীমা মাথাপিছু আয়ের দ্বিগুণ।
প্রতিবন্ধীর পিতামাতারা স্বস্তি পেলেন
প্রস্তাব: প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা ও আইনানুগ অভিভাবকদের করমুক্ত আয়সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে। এ ধরনের পরিবারের সব শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে।
প্রভাব: গতবার বাজেটে ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার আরও ৫০ টাকা বাড়ানো হলো। এর ফলে প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকদের একটু স্বস্তি মিলবে। তাঁরা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে পারবেন।
উবার–পাঠাওয়ে গাড়ি দিলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক
প্রস্তাব: রাইড শেয়ারিং সেবায় মোটরযান প্রদানকারীদের রিটার্ন দাখিল এবং ১২ সংখ্যার টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রভাব: নিজের গাড়িটি দিনের অনেকটা সময় বসে থাকে, বাড়তি আয়ের পথ হিসেবে উবার, পাঠাও, ওভাই, সহজ, লেটস গোর মতো রাইড শেয়ারিং সেবায় দেওয়ার চিন্তা করছেন।
আনুতোষিক আয়ের (পারকুইজিট) সীমা বাড়ল
প্রস্তাব: পারকুইজিট হিসেবে অনুমোদনযোগ্য খরচের সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
প্রভাব: এতে চাকরিজীবীরা সুবিধা পাবেন। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, মোবাইল ফোন বিলসহ বিভিন্ন খাতে ভাতা পান তাঁরা। আগে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ছিল। এখন তা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা হল
চাকরিজীবীরা সাবধান
প্রস্তাব: বেতনভোগী কর্মীরা রিটার্ন না দিলে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নিরীক্ষা করা হবে।
প্রভাব: মূলত কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতবার এ ধরনের কর্মীদের ক্ষেত্রে টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এবার রিটার্নও বাধ্যতামূলক করা হলো। অবশ্য দণ্ডের তির ছোড়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানের দিকে। কর্মীরা রিটার্ন না দিলে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নিরীক্ষা করা হবে।
মিথ্যা তথ্য দিলে জেল–জরিমানা
প্রস্তাব: মিথ্যা তথ্য দিলে তিন বছরের জেলা কিংবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রভাব: এতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রবণতা কমবে। কর ফাঁকিতে নিরুৎসাহিত হবেন করদাতারা।
ই–মেইলে সব নোটিশ
প্রস্তাব: করদাতাদের কাছে ই-মেইলেই সব নোটিশ যাবে।
প্রভাব: এটি ভালো উদ্যোগ। করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর কর্মকর্তাদের দেখা হবে না। হয়রানি কমবে। রিটার্ন নথিতে ই-মেইল ঠিকানা দিলেই হবে। তবে সমস্যা হলো যাঁদের ই-মেইল নেই, তাঁদের কী হবে।
বাড়ি–গাড়ি থাকলে সম্পদ বিবরণী বাধ্যতামূলক
প্রস্তাব: সম্পদের পরিমাণ যা–ই হোক না কেন, মোটরগাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা গৃহসম্পত্তি থাকলে বার্ষিক রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রভাব: বাড়ি-গাড়িওয়ালাদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের চিত্র পাওয়া যাবে।
তিন হাজার টাকা দিতেই হবে
প্রস্তাব: গতবারের মতো এবারও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ন্যূনতম কর যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা ও ৩ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
প্রভাব: আড়াই লাখ টাকার আয় হলেই আপনাকে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ হাজার কর টাকা দিতে হবে।

ইতিহাস সাক্ষী, বঙ্গবন্ধুর কথা বলছি।

“দোতলার সিঁড়িতে উঠতেই বঙ্গবন্ধুর লাশটা দেখি। তার চশমা ও পাইপটাও পড়ে ছিল। দূর থেকে ভেতরে দেখলাম বেগম মুজিব পড়ে আছেন। যে লোকটার অঙ্গুলি হেলনে পঁচাত্তর মিলিয়ন লোক উঠছে বসছে, সে লোকটাকে তার সৃষ্ট আর্মি মেরে ফেললো। এটা কী করে সম্ভব? পাকিস্তানীদের কাছে মারা যায় নাই, মারা গেল শেষ পর্যন্ত বাঙালীর কাছে।”

অন্যান্য দিনের মতোই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন।খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১২টার মধ্যেই সে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যায়।তখন সে বাড়ির নীচ তলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম। রাত তিনটা নাগাদ ঘুমাতে যান মি: ইসলাম।এর কিছুক্ষণ পরেই সে বাড়িতে টেলিফোনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মি: ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। কারণ রাষ্ট্রপতি তার সাথে কথা বলতে চেয়েছেন।মুহিতুল ইসলাম ২০১৬ সালে মারা যান। ১৯৯৬ সালে মি: ইসলাম শেখ মুজিব হত্যা মামলার বাদী হয়েছিলেন।এর আগে ২০১০ সালে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে মি: ইসলাম বলেন, ” বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় আক্রমণ করছে। ঐ অবস্থায় আমি পুলিশকে টেলিফোনের চেষ্টা করছিলাম। তারপরে বঙ্গবন্ধু উপর থেকে নিচে নেমে এলেন। গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরা। তখন উনি আমাকে বললেন যে আমার কাছে দে।”আমার কাছ থেকে তিনি রিসিভারটা নিলেন। নিয়ে বললেন যে , হ্যালো আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি। উনি একথা বলার সাথে সাথেই বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু হলো। উনি গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বললেন যে পুলিশ সেন্ট্রি,আর্মি সেন্ট্রি – এতো গুলি চলছে তোমরা কী করো? আমিও ওনার পিছু এসে দাঁড়ালাম। উনি একথা বলেই উপরে উঠে চলে গেলেন।”এ গোলাগুলির সময় রাষ্ট্রপতিসহ তাঁর বাড়ির কেউ ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন নি।শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামালকে যখন বাড়ির নিচ তলায় গুলি করে হত্যা করা হয় তখন ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল, বলছিলেন মুহিতুল ইসলাম।ধানমন্ডির সে বাড়িতে সশস্ত্র হত্যাকারীরা প্রথমে হত্যা করে শেখ কামালকে। গোলাগুলির আওয়াজ শোনার পর ঘটনা সম্পর্কে জানতে বাড়ির নিচ তলায় নেমে আসেন শেখ কামাল।”পাঁচ-ছয়জন আর্মি, কেউ কালো পোশাকধারী কেউ খাকি পোশাকধারী – ওনার সামনে এসে বললো হ্যান্ডস আপ। কামাল ভাই বলছে, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। তখনই সাথে-সাথে ব্রাশ ফায়ার।”

গুলিতে বুক ঝাঁঝরা হয়ে মুখ তুবড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শেখ কামাল।রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন কোন ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই হত্যাকারীরা পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।মুহিতুল ইসলাম বলছিলেন, একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরণের নিরাপত্তা থাকা দরকার সেটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোন তরফ থেকে কোন ধরনের সহায়তা আসেনি।শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বেপরোয়া গুলি চালিয়ে বাড়ির উপরের দিকে যাচ্ছিল। উপরে উঠেই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। চারিদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ।” উপরে তো তাণ্ডবলীলা চলছে। চারিদিকে একটা বীভৎস অবস্থা। ঠিক সে মুহূর্তে উপর থেকে চিৎকার শুরু করলো যে পাইছি পাইছি। এরপরে বঙ্গবন্ধুর একটা কণ্ঠ শুনলাম। তিনি বললেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস? এরপরে ব্রাশ ফায়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা আর শুনতে পাইনি,” সে রাতের ঘটনা এভাবে বর্ণনা করলেন মুহিতুল ইসলাম ।মি: ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী ধানমন্ডির সে বাড়িটিতে সর্বশেষ হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে। তখন তার বয়স মাত্র দশ বছর। এ হত্যাকাণ্ডটি হয়েছিল মুহিতুল ইসলামের সামনে।”রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে ‘আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব’। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, ‘চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি’। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।”রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পর ঘাতকরা একে অপরকে বলছিল, “অল আর ফিনিশড (সবাই শেষ)”।সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। সে সময় ঢাকা সেনানিবাসে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। মি: চৌধুরী ২০১৩ সালে মারা যান।২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর পাঁচটার দিকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর রশিদের নেতৃত্বে একদল সেনা তার বাড়ি ঘিরে ফেলে।আমিন আহমেদ চৌধুরী তখনো জানতেন না যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। মেজর রশিদের নেতৃত্বে সৈন্যরা আমিন আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন কর্নেল শাফায়াত জামিলকে নিয়ে যায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে। জেনারেল জিয়া তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান।

খন্দকার মোশতাক আহমেদ
জেনালের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ঢোকার সময় রেডিওর মাধ্যমে আমিন আহমেদ চৌধুরী জানতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।”জেনারেল জিয়া একদিকে শেভ করছেন একদিকে শেভ করে নাই। স্লিপিং স্যুটে দৌড়ে আসলেন। শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘শাফায়াত কী হয়েছে?’ শাফায়াত বললেন, ‘এপারেন্টলি দুই ব্যাটালিয়ন স্টেজ এ ক্যু। বাইরে কী হয়েছে এখনো আমরা কিছু জানি না। রেডিওতে এনাউন্সমেন্ট শুনতেছি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন।’ তখন জেনারেল জিয়া বললেন, সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স।”

সেনানিবাসের দুটি ব্যাটালিয়ন এ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী সেটার পক্ষে ছিল না বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী। ঢাকা সেনানিবাসে যখন এ অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়েছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার খবর কেন আগে জানা সম্ভব হয়নি এবং কেন সেনাবাহিনীর অন্য কোন ইউনিট এগিয়ে আসেনি সেটি আজও এক বিরাট প্রশ্ন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আক্রমণের সময় শেখ মুজিবুর রহমান তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিনকে ফোন করে তার বাড়িতে আক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন।কর্নেল জামিল তখন সাথে সাথে রওনা হয়েছিলেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির দিকে।কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের কাছে পৌঁছলে তার গাড়ি রোধ করে অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সৈন্যরা।সে বাধা উপেক্ষা করে কর্নেল জামিল সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।সকাল ১০টার দিকে আমিন আহমেদ চৌধুরী গিয়েছিলেন সে বাড়িতে।ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ হত্যাকাণ্ড হলেও তখন সেখানে মৃতদেহ দেখেছেন মি: চৌধুরী।

জিয়াউর রহমান
সামরিক পোশাক পর অবস্থায় মি: চৌধুরী সেখানে গেলেও তাকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না সৈন্যরা।মি: চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, ” আর্টিলারি রেজিমেন্টের কিছু ট্রুপস ছিল সেখানে। মেজর হুদা ছিলেন। আমি যে যেহেতু হুদাকে চিনতাম, তাকে বলার পর সে আমাকে ঢুকতে দেয়। আমি দোতলার সিঁড়িতে উঠতেই বঙ্গবন্ধুর লাশটা দেখি। তার চশমা ও পাইপটাও পড়ে ছিল। দূর থেকে ভেতরে দেখলাম বেগম মুজিব পড়ে আছেন। যে লোকটার অঙ্গুলি হেলনে পঁচাত্তর মিলিয়ন লোক উঠছে বসছে, সে লোকটাকে তার সৃষ্ট আর্মি মেরে ফেললো। এটা কী করে সম্ভব? পাকিস্তানীদের কাছে মারা যায় নাই, মারা গেল শেষ পর্যন্ত বাঙালীর কাছে।”সে অভ্যুত্থানের পর অনেকে তাকিয়ে ছিলেন তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর প্রতিক্রিয়ার দিকে।সেনাবাহিনীর সাথে রক্ষীবাহিনীর কোন সংঘাত তৈরি হয় কী না সেটি নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ধরণের কিছু ঘটেনি।রক্ষীবাহিনীর দিকে থেকে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় অনেকে অবাক হয়েছিলেন।শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর উল্টো রক্ষীবাহিনী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে জানান আমিন আহমেদ চৌধুরী।ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে আমিন আহমেদ চৌধুরী দুপুর নাগাদ পৌঁছেন সাভারে অবস্থিত রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরে।মি: চৌধুরীর দায়িত্ব ছিল রক্ষীবাহিনী যাতে আতঙ্কগ্রস্ত না হয় সে বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া।” আমি সেখানে গিয়ে বলি যে সেনাবাহিনীর কিছু লোক এটার (হত্যাকাণ্ড) সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী এর সাথে জড়িত নয়। সে হিসেবে সেনা প্রধানের বানী নিয়ে আমি এখানে আসছি,” বলছিলেন মি: চৌধুরী।হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।সামগ্রিকভাবে ১৫ আগস্ট সারাদিন সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।অভ্যুত্থানের খবর জানাজানি হবার পরে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যেই এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী।তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন। কী করতে হবে তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।মি: চৌধুরীর বর্ণনায়, “যখন সকাল হয়ে গেছে তখন দেখা যাচ্ছে কোন পলিটিকাল ডিরেকশন আসতেছে না। বঙ্গবন্ধু মারা গেছে, এখন আমরা কী করবো? কার পেছনে দাঁড়াবো? তারা তো খন্দকার মোশতাককে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা এখন তাকে ডিজলস (ক্ষমতাচ্যুত) করবো? এর বিরুদ্ধে গেলে পুরোপুরি যুদ্ধ করতে হবে। কারণ ওরা ট্যাংক বের করে অলরেডি বঙ্গভবনে বসে গেছে, ফার্মগেটের সামনে বসে গেছে, জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরে অলরেডি মুভ করছে। পরিস্থিতি অ্যাসেস করতে হচ্ছে। আমরা কি পারবো? আমাকে তো জানতে হবে আমার কাছে কত সৈন্য আছে এবং কত অ্যামুনিশন আছে। এতে গিয়া গোলমাল হয়ে গেল। কনফিউশনটা খুব বেশি ছিল।”খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত ঘাতক জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা।সে থেকে পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর বাংলাদেশের ইতিহাস সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের ইতিহাস।

সংগ্রহ – বি বি সি বাংলা

ফেইসবুকের পাতা থেকে।

মেজর ডালিমের স্ত্রীকে কিডন্যাপ করে ধর্ষণ করেছিল বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল ?
অভিনেত্রী ডলি জহুর
এবং বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল
আমার পত্রিকার সংস্কৃতিমুখ বিভাগের
জন্য ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম
দেশের প্রখ্যাত সিনিয়র
অভিনেত্রী ডলি জহুরের কাছে। তিন
পাতার বিশাল সেই ইন্টারভিউ
ছাপা হয়েছিল কিছু রাজনৈতিক প্রসঙ্গ
কেটে দিয়ে। আমি কষ্ট পেয়েছিলাম
কিন্তু কিছুই করার ছিল। শুধু
একটা বিষয় অনুধাবণ
করেছি কালে কালে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের
উপর যেসব মিথ্যে অভিযোগ দেশময়
ছড়িয়ে আছে তার অন্যতম বাহন ছিল
গণমাধ্যম। এমনকী এই সময়ে এসেও কেউ
সত্যি কথাগুলো প্রকাশ করতে চায় না।
পাছে আওয়ামী লীগের সীল লেগে যায়।
কিন্তু আমার এই নিয়ে কোন
মাথাব্যাথা নাই। জাতির পিতার
পরিবারকে টম এন্ড জেরী কার্টুন
বানানো হবে কতিপয়
স্বার্থবাদী মানুষের জন্য
সেটা আমি মানতে পারি না। তাই যেসব
কথা ডলি জহুরের ইন্টারভিউ
থেকে কেটে ফেলা হয়েছিল সেই
কথাগুলো তুলে ধরলাম। কারণ এখনই
সুসময় সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের।
স্বার্থবাদীরা আজ বিপন্ন হওয়ার
অপেক্ষায়। অবশ্য দুনিয়াতে কখনই
স্বার্থবাদীরা টিকে থাকে নি।
যাই হোক ওইদিনের
ইন্টারভিউয়ে ডলি জহুরের জন্য
একটা প্রশ্ন ছিল-ম্যাডাম আপনার মঞ্চ
নাটকের শুরুটা কিভাবে? তখন
তিনি নানা কথা বলেন। সেসব কথার
ফাঁকে উঠে বঙ্গবন্ধু পুত্র আসে শেখ
কামালের কথা। আমি তার মুখে শেখ কামাল
সম্পর্কে এসব নতুন কথা শুনে একেবারেই
তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম। শেয়ার
করছি আপনাদের সাথেও। শেখ কামাল আর
ডলি জহুর একই নাট্যদলে কাজ করতেন।
প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু হত নাটকের
রিহার্সাল-একটানা চলত রাত
১১টা-১২টা পর্যন্ত। রিহার্সাল
শেষে ডলি জহুর বাসায় ফিরতেন শেখ
কামালের সাথে। কারণ ডলি জহুররা তখন
হাতিরপুলে থাকতেন।
ডলি জহুরকে বাসায় পৌছে দিয়ে তারপর
ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাসায়
যেতে কামাল। ডলি জহুর আবেগতাড়িত
কণ্ঠেবলেন-১৯৭৩-৭৪ সালে ঢাকা শহরে রাত
১০টা মানেই অনেক রাত। রাস্তা একেবারেই
ফাঁকা। সেখানে প্রতিদিন কামাল ভাই
আমাকে ১১টা-১২টার দিকে বাসায়
পৌছে দিতেন। প্রেসিডেণ্টের
ছেলে হয়েও তার কাছে সবসময় টাকা থাকত
না। এ নিয়ে অনেক ক্ষ্যাপাতাম। শুধু
আমি না ক্যাম্পাসেও তার বন্ধুরা তাকে এই
জন্য ক্ষ্যাপাত। যেদিন কামাল ভাইয়ের
কাছে টাকা থাকত না সেদিন
রাতে হেঁটে যেতাম। যেদিন টাকা থাকত
সেদিন যেতাম রিকশায়। কত রাতের
পরে রাত উনার সাথে আমি একা বাসায়
ফিরেছি অথচ এক বারের জন্যও
আমি তাকে আমার
দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকাতে দেখিনি।
আমিউনার ছোট বোন শেখ রেহানার
বান্ধবী ছিলাম। ছেলেরা ছোটবোনের
বান্ধবীদের সাথে কতরকম দুষ্টামী করে।
উনি কোনদিন তাও করেন নি। ভুল
করেও বলেন নি-ডলি তোর
হাতটা দে তো ধরি। এক কথায় কামাল ভাই
ছিলেন ভাইয়ের মতই ভাই। শুধু
আমি কেন যেসব মেয়েরাই উনার
সাথে মিশত সবাই এইকথা স্বীকার
করবেন। আর এই দেশের মানুষ
তাকে নিয়ে কতরকমের অপপ্রচার
চালালো। কামাল ভাই নাকি কার
বৌকে তুলে নিয়ে গেছেন হ্যান ত্যান।
মানুষ এত মিথ্যাবাদী হয়
কি করে আমি ভেবে পাই না! স্বার্থ
মানুষকে ভিতর-বাহির থেকেই নষ্ট
করে দেয়। তাছাড়া কামাল ভাই ছিলেন
প্রেসিডেন্টের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জন্য শত শত
মেয়ে পাগল। কখনও কোনদিন
আমরা তাকে সেসব মেয়েদের পাল্লায়
পরতে দেখিনি। তিনি কি পারতেন
না সেসব মেয়েদের
সাথে নোংরামী করতে? এখানেই শেষ নয়।
সুলতানা কামালকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন
কামাল ভাই। সুলতানা আপ ছিলেন
নামকরা একজন খেলোয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্য
তিনি এক নামে পরিচিত। অনেক
লম্বা আর শক্ত পেটা শরীর।
আমরা উনাকে ভয় পেতাম। সহজে কেউ
সুলতানা আপার কাছে যেতাম না। ছেলেরাও
ভয় পেত তাকে। এড়িয়ে চলত। সেই
সুলতানা আপাকে পছন্দ করে বসলেন
কামাল ভাই। আর তার হয়ে সুলতানা আপার
কাছে এই কথাটা বলার দ্বায়িত্ব দেন
আমাকে। আমি তো ভয়েই শেষ।
না করে দিলাম। কিন্তু কামাল ভাইয়ের
জোরাজোরিতে রাজী হলাম।
কথা দিলাম সুলতানা আপাকে জানাব
যে কামাল ভাই তাকে পছন্দ করে। কিন্তু
দিন যায়, মাস যায় জানানো আর হয় না।
কি করে হবে? আমিযতবার
সুলতানা আপার কাছে এই
কথা বলতে গিয়েছি ততবারই ভয়ে আমার
গলা শুকিয়েছে। আমি ভীতু,
তেলাপকা দেখে মরে যা এসব কত্ত রকমের
কথা শুনালো কামাল ভাই।
অবশেষে নিজেই একদিন
সুলতানা আপাকে জানালেন তার মনের কথা।
হলে প্রত্যাখ্যাত।
সুলতানা আপা বলে দিলেন প্রেম ট্রেম
করতে পারবেন না। এতই যদি ভাল
লাগে তবে যেন বাসায় লোক পাঠায়। তাই
করেছিলেন কামাল ভাই। এবার ভেবে দেখ,
যে মানুষ একটা মেয়েকে ভয় পেয়ে তার
সামনে দাঁড়াতে পারে না, যে মানুষ তার
ভালোবাসার কথা জানাতে আড়াই বছর
সময় নেয়, সে মানুষ কি করে অন্যের বউ
তুলে নিল??? বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর দেশের
মানুষকে শান্ত রাখতে বঙ্গবন্ধুর
পরিবারের প্রতি ঘৃনার জন্ম দিতে সব
রকমের চেষ্টা চালিয়েছে। কামাল ভাইও
সেই অপচেষ্টার শিকার। ৫ টাকার বাদাম
কিনে যে ছেলে তার ছোট বোন আর তার
বান্ধবীদের খুশি করতে পারত না তার
নামেই ছড়ানো হয়েছে ব্যাংক লুটের
কিচ্ছা-কাহিনী। আমার কথা হল কামাল
ভাই যদি এত বড়ই
লুটেরা হবে তাহলে সেসব টাকা গেল
কই??? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর
বাসায় কিছুই পাওয়া যায় নি। পাওয়া যায়
নি উল্লেখ করার মত তেমন কোন ব্যাংক
একাউন্ট। তাহলে ব্যাংক লুটের
তাকা কোথায় গেল?

( ** সংগ্ৰহকৃত )

ডলি’র জন্য প্রান ঢালা অভিনন্দন।

🇧🇩 🇨🇦 ‌ড‌লি বেগম বলি, কানাডার প্রথম বাংলা‌দেশী বং‌শোব্দুত এম‌পি নির্বা‌চিত হ‌য়ে‌ছেন।৭ জুন অনুষ্ঠিত অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েষ্ট আসন থে‌কে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) এর মনোনয়নে নির্বা‌চিত হ‌য়ে‌ছেন তিনি।
তিনি সিলেট মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সুজন মিয়ার নাতনী।
পু‌রোদস্তুর বাংলা‌দেশী ড‌লি বেগ‌মের এ ই‌তিহাস লেখা এ জয় মৌলভীবাজার বাসীর, দেশবাসীর অার সব প্রবাসীর গ‌র্বের অর্জন।
উপসংহারে ভলি বেগমের প্রতি আমাদের অভিনন্দন মিশ্রিত বক্তব্য হচ্ছে, “অাপনার এমন অর্জন প্রবা‌সে বাংলা‌দেশী নতুন প্রজন্ম‌কে স্ব স্ব দে‌শে মূল ধারার রাজনী‌তিতে যুক্ত হ‌তে নিঃস‌ন্দে‌হে উৎসাহ যোগা‌বে, করবে অনুপ্রা‌ণিত”।

বিজ্ঞানময় কোরআন।

বিংশতম পোষ্ট
কোরআন ও বিজ্ঞান
***********************
মক্কার মুশরিকরা যখন পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে হাসাহাসি করতো এবং এভাবে বলতো,
সূরা বনী ইসরাইল আয়াত ৪৯,
“তারা বলেঃ যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?”
তখন আল্লাহ্‌ বলেন–
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَجْمَعَ عِظَامَهُ
মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না?
بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
পরন্ত আমি তার অঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।(সুরা কিয়ামাহ: ৩,৪)
বন্ধুগণ, এই আয়াতের কি বিশেষত্ব আছে? এখানেতো শুধু হাড় আর আংগুলের কথা বলা হয়েছে!!
যারা মনেকরেন আয়াতটি নিরক্ষর ব্যাক্তির অতি সাধারণ জ্ঞানহীন বক্তব্য তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা একটু উপলব্ধি করুন আয়াতের গভীরতা!!
তাহলে হাত এবং আঙ্গুলের গঠনশৈলী ও শৈল্পিক এনাটমি বিশ্লেষণ করা যাকঃ
♦ সমস্ত শরীরের হাড়ের সংখ্যা মোট ২০৬টি, জানেন কি তন্মধ্যে দুই হাতেই রয়েছে ৫৪টি এবং তা হাতের এসব সুক্ষ কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনেই।
♦ দুই হাতের দ্রুত পরিচালনার নিমিত্তে রয়েছে ৬০টি মাংশপেশী।
♦মাংশপেশী সমূহের insertion বা নিস্পত্তি হয় tendon sheath এর মাধ্যমে যার শৈল্পিক গঠন এবং বিন্যাস খুবই সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
♦ ধমনী এবং শিরার জালিকা বিন্যাস (capillaries & venules), synovial sheath distribution অবাক করার মত। অনামিকা এবং মধ্যমা আঙ্গুলে সাইনোভিয়াল শিথ না থাকার কারণেই এই দু আঙ্গুলে prick করে রক্ত নেয়া হয় যাতে কোন প্রকার সংক্রমণ না হয়।
Index finger বা নির্দেশিকা আঙ্গুলে অপারেশনের সময়ে খোঁচা খেয়ে সংক্রমণ হওয়ার কারণে বিশ্বখ্যাত সার্জন হেমিলটন বেইলীর এ আঙ্গুলটি কেটে ফেলতে হয়েছিল। পরবর্তীতে একটা বিশেষ সার্জিকেল কোম্পানী উনার জন্য চার আঙ্গুল বিশিষ্ট গ্লাভ্স(gloves) তৈরি করে সরবরাহ করত।
♦আঙ্গুলের nerve endings বা স্নায়ুপ্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল। না দেখেও অনেককিছু স্পর্শ করে আন্দাজ করা সম্ভব যা অনেকটা ষষ্ঠেন্দ্রীয়ের মতই।
♦স্নায়ুবিহীন নখের উপস্থিতি কত গুরুত্বপূর্ণ একটু আন্দাজ করুন। তা কেবল সৌন্দর্যের জন্যেই নয়, একবার কোন আঘাতে এটা পড়ে গেলে দিনে কতবার এখানে ব্যথা পাবেন তার ইয়ত্তা নেই, যা অনেকটা ভাঙ্গা পা গর্তে পড়ার মতই।
♦নখের ধরণ, আকার এবং রং দেখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় করতে পারেন চিকিৎসকবৃন্দ।
হাত এবং আঙ্গুলের অনেক অলৌকিক মহিমা হয়ত এখনো পুরোপুরি আমাদের জানা হয়নি।
তাইতো মাওলা বলেছেন—–
﴿ فَبِاَىِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ﴾
হে জ্বীন ও মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন্ কোন্ কুদরতকে অস্বীকার করবে?
এখানেই শেষ নয় আরো রহস্য রয়েছে বাকী!!
আল্লাহ্‌ আরো বলেন–
بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
বরং আমি তার অংগুলি- গুলোর ডগা পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।” (আল কিয়ামাহ, আয়াত ৩-৪)
এখানে আল্লাহ ফিঙ্গার প্রিন্টের স্বকীয়তার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আল্লাহ শুধু মানুষের অস্থিতে মাংশ পড়িয়েই উত্থিত করবেন না বরং এমন নিখুত ভাবে মানুষকে জীবিত করবেন যেন জীবদ্দশায় তার আংগুলের শুক্ষ্ রেখা পর্যন্ত সুবিন্যস্থ করবেন। এখানে কাফিরদের অভিযোগের ও উত্তর দেওয়া আছে। মুশরিকরা বলে গলা পচা অস্থি একজনের গুলোর সাথে অন্য জনের গুলো মিশ্রিত হবে না?
ফিঙ্গার প্রিন্ট কে ডাটা ব্যাংক বলা হয়। জিনের মধ্য সন্নিবেশিত প্রায় সকল বৈশিষ্ট, শুধু শারিরীক গঠনই নয় বরং চারিত্রিক বৈশিষ্ট পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপে এনকোড করা থাকে। তাই আল্লাহ এখানে কাফির দের জবাব ও জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন দিয়েছেন, যে শুধু মাত্র আঙ্গুলের ডগার প্রিন্ট দিয়ে যদি একটি মানুষের সম্যক বৈশিষ্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তবে প্রত্যেক মানুষ কে তার নিজের অস্থি দিয়ে পুনঃবিন্যস্থ করা কোনো ব্যাপারই না।
বন্ধুগন,
১৫০০বছর আগে কোরআন এ বর্ণীত হয়েছে এই তথ্য!!
আধুনিক বিজ্ঞান কবে জেনেছে?
১৬৮৪ সালে সর্বপ্রথম ইংলিশ ফিজিসিয়ান, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এবং অনুবিক্ষন যন্ত্রবীদ “নিহোমিয়া গ্রিউ” (১৬৪৭-১৭১২) বৈজ্ঞানিক দৈনিকী প্রকাশ করে করতল ও আংগুলের ছাপের রহস্যের সংযোগ সূত্রের ধারণার উত্থাপন করেন।
এর পর ১৬৮৫ সালে ডার্চ ফিজিসিয়ান “গোভার্ড বিডলো” (১৬৪৯-১৭১৩) এবং ইটালিয়ান বিজ্ঞানী “মারসিলো বিডলো” (১৬২৮-১৬৯৪) এনাটমির ওপর বই প্রকাশ করে ফিঙ্গার প্রিন্টের ইউনিক গঠনের আলোচনা উত্থাপন করেন।
১৬৮৪ সালের পূর্বে ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পর্কে আর কোনো বিজ্ঞা্নীর আলোকপাতের কথা পাওয়া যায় না। এর পরবর্তী তে দীর্ঘ বিরতির পর ১৮০০ সালের পর ফিঙ্গার প্রিন্ট পুনরায় জোরভাবে বৈজ্ঞানিক দের দৃষ্টি আকর্ষন করে। এসব বিজ্ঞানীদের মধ্য উল্লেখ যোগ্য হলেন, ১৮৭৫ সালে জেন জিন্সেন, খুলনার সৈয়দ মুহাম্মাদ কাজী আজিজুল হক, ব্রিটিশ কর্মকর্তা এওয়ার্ড হেনরি
১৮৮০ সালে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট এর গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আঙ্গুলের ছাপকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।পৃথিবীতে এমন দু’জন ব্যক্তি নেই যাদের আঙ্গুলের ছাপ এক রকম।এমন কি দুই যমজ ভাইয়েরও না।একারণে বিশ্বব্যাপী পুলিশ বাহিনী অপরধীদেরকে চিহ্নিত করার জন্য আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে।
সুবাহানাল্লাহ! ১৯শতকে এসে আধুনিক বিজ্ঞান যে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করল, কোরআন তা নিশ্চিত করে বলেদিল ১৫০০ বছর আগে!!
কিভাবে সম্ভব হল যদি না এটি ঐশী গ্রন্থ হয়?